আব্দুল করিম,চট্রগ্রাম বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান :
চট্রগ্রাম চন্দনাইশ উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর মধ্যে দেওয়ানহাট-বৈলতলী-বরমা-ধামাইরহাট-পটিয়া সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সড়ক দিয়ে চন্দনাইশের দোহাজারী, সাতবাড়িয়া, বৈলতলী, বরমা, সাতকানিয়ার খাগরিয়া ও পটিয়া উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করে প্রতিদিন।বিগত বর্ষা মৌসুমে অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার সময় সড়কটি একেবারেই নষ্ট হয়ে পড়ে। দীর্ঘ ১৬ কিলোমিটার সড়ক জুড়েই ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চলাচলরত জনগণকে যেমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তেমনি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহন। রিকসা, সাইকেল ও মোটর সাইকেল চালিয়ে গন্তব্যে যাওয়া সম্ভব হয় না। পথিমধ্যেই অনেক যানবাহন বিকল হয়ে পড়ে।
এব্যাপারে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার রেজাউন নবী বলেন, উপজেলার দেওয়ানহাট-বরমা-ধামাইরহাট-পটিয়া সড়কের সাথে বোয়ালাখালী উপজেলার অপর একটি সড়ক মিলে ২৭ কোটি টাকার একটি প্যাকেজ বিশ্বব্যাংক থেকে পাস হয়েছে। গত ১২ নভেম্বর তার টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ঠিকাদারকে কাজ বুঝিয়ে দেয়ার প্রসেসিং শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আশা করছি চলতি মাসের মধ্যেই সড়কটির কাজ শুরু করা যাবে।সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটির অবস্থা খুবই নাজুক। গাড়ি চলাচলের কোনো পরিবেশ নেই। প্রায় পুরো সড়কে উঠে গেছে কার্পেটিং। সড়কের অনেক জায়গায় স্থানীয়ভাবে ইট বালি দেয়া হলেও তা বর্তমানে আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
এ সড়কটি দিয়ে চলাচলকৃত সিএনজি চালকরা জানান, বিগত ৩ বছর পূর্বে সড়কটিতে কার্পেটিং করা হয়েছিল। এরপর সড়কের কোথাও একটি ইটের কণাও ফেলা হয়নি । তারা অভিযোগ করেন, প্রতিবারই ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করে চলে যায়। ফলে বছর না ঘুরতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে সড়কটি যা অবস্থা তাতে সিএনজি অটোরিকশা চালাতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ১০ মিনিটের পথ ১ ঘন্টায় পাড়ি দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। জরুরী ভিত্তিতে রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া সম্ভব হয়না।
দেওয়ানহাট এলাকার বাসিন্দা মোঃ খোরশেদ আলম জানান, উক্ত সড়কটি দেওয়ানহাট থেকে খাগরিয়া রাস্তার মাথা পর্যন্ত ১ কিলোমিটার বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কের এ স্থানে কার্পেটিংয়ের বদলে আরসিসি ঢালাই করা হলে বেশি টেকসই হবে। তিনি বলেন, এ সড়ক দিয়ে দেওয়ানহাট, সাতবাড়িয়া, বরমা, বৈলতলী ও সাতকানিয়ার খাগরিয়া ইউনিয়নের কমপক্ষে লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করে। এর মধ্যে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার হাজার হাজার ছাত্র/ছাত্রীও রয়েছে। এছাড়া এ অঞ্চলের কৃষকের উৎপাদিত কৃষিপণ্য এ সড়ক দিয়েই বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। ইতোমধ্যে স্থানীয়রা ইট দিয়ে সড়কের বিভিন্ন স্থানে মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করলেও ভোগান্তি কমার চেয়ে বেড়েছে দ্বিগুণ।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক -শেখ তিতুমীর আকাশ।
বার্তা প্রধান : মোঃ সেলিম উদ্দিন
ইমেইল: dailyswadhinbhasha@gmail.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.abhijug.com কর্তৃক সংরক্ষিত।