সিকদার লিটন : ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা আ.লীগের সভাপতি এস.এম আকরাম হোসেনের বিরুদ্বে সংখ্যালঘুদের বাড়ী দখল,টেন্ডার বানিজ্য,মাদক ব্যবসা ,দলীয় পদ বাণিজ্য,চাদাবাজি-দখলবাজি,সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সহ নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আলফাডাঙ্গা উপজেলা আ.লীগের দলীয় কার্যালয় জামায়াতে ইসলামী নেতার কাছে ইজারা প্রদান,রাজাকার ও স্বাধীনতা বিরোধীদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ তালিকায় নাম অন্তভুক্তি বাণিজ্য করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া, চাঁদাবাজি আর দখলবাজি করে গড়ে তুলেছেন শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে ,ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা আ.লীগের সভাপতি এস এম আকরাম হোসেনের পিতা পাচু মিয়া ছিলেন রাজাকার ও শান্তি কমিটির সক্রিয় সদস্য।
শান্তিবাহিনীর সদস্য পাচু মিয়ার জ্যৈষ্ঠ পুত্র আলফাডাঙ্গা উপজেলা আ.লীগের বতর্মান সভাপতি আকরাম হোসেন ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় গ্রামের বেশকিছু হিন্দুদের হত্যা,লুটপাট,ও অগ্নিসংযোগে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন ।
স্বাধীনতা বিরোধী এই নেতা জিয়াউর রহমানের আমলে পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও ইউনিয়ান পরিষদ চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমানের ছেলের সাথে নিজের মেয়ের বিবাহ দিয়ে সেই সময়ে সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা অর্জনে সক্ষম হন।
সুবিধাবাধী আকরাম হোসেন জাতিয় পার্টিতে যোগ দিলেও ১৯৮৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফ্রিডম পার্টির মনোনীত প্রাথী ভগ্নিপতি আব্দুল জলিল মোল্লা ও বঙ্গবন্ধুর খুনি বজলুল হুদার পক্ষে নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা চালান।
ঐ সময় আকরাম হোসেন নিজস্ব ক্যাডার বাহিনীদের দিয়ে আ. লীগ নেতাকর্মীদের উপর হামলা,মামলা, অমানুষিক নির্যাতন,অত্যাচার করেন ও আ.লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য সাজেদা চৌধরীর সভা পন্ড করা করা সহ হিন্দু সম্পত্তি জবর দখল করেন।
জানা যায়, রাজাকার পরিবারে সন্তান আকরাম হোসেন আওয়ামী কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় জনৈক্য নেতাকে এলাকার সংসদ বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে ২০১৫ সালে আলফাডাঙ্গা উপজেলা আ .লীগের সভাপতির পদে অধিষ্ঠিত হয়ে নতুন ভাবে তার বিগত কর্মাকান্ড শুরু করেন।
আলফাডাঙ্গা উপজেলা আ.লীগের সভাপতির পদ পাওয়া পর থেকে আকরাম হোসেন বিগত ৪ বছরে কয়েকবার নতুন কমিটির মাধ্যমে ৬১ জন প্রকৃত আ. লীগ নেতাকর্মীদের বাদ দিয়েছেন।
এলাকায় নিজস্ব বলয় সৃষ্টির জন্য থানা ও ইউনিয়ন কমিটি গুলোর গুরুত্বপূর্ন পদগুলিতে রেখেছেন নিজের পরিবারের আত্বিয় স্বজনদের।
এছাড়া রাজাকার উকিল মিয়ার ছেলে আজাদ হোসেন ও বিএনপির সভাপতি মকিবুল হাসান পটু মিয়াকে উপজেলা আ.লীগ সহ-সভাপতির পদ দিয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদে সহোদর ভাইকে বসিয়েছেন।
আলফাডাঙ্গা উপজেলা আ.লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী,মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারন মানুষের স্বাক্ষরিত দুদক সহ বিভিন্ন সংস্থায় একাধিক অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলা আ. লীগ সভাপতি আকরাম হোসেন এলাকায় ২২৫জনকে মুক্তিযোদ্ধা সনদ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনপ্রতি ৪ লক্ষ টাকা করে ৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
গত, ইউপি নির্বাচনে ১নং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী রানার কাছ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা,৩নং আলফাডাঙ্গা ইউনিয়নের আব্দুর রাজ্জাকের কাছ থেকে ৩৫ লক্ষ, ৪নং টগরবন্ধ ইউপির মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ৩০ লক্ষ সহ সংগঠনের উপজেলা হতে ইউনিয়ন,ওয়ার্ড পর্যায়ে পদ বাণিজ্যে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।
এছাড়া নকল দলিল,জবর দখলের মাধ্যমে স্থানীয় মাষ্টার অমল বাবু, মাষ্টার কালী বাবু, পরেশ ভেন্ডার, মধূসুধন কর্মকার সহ একাধিক নিরিহ মানুষের সম্পত্তি ও বাড়ী দখল করেছেন।
সবশেষে উপজেলা আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয় জামায়াত নেতার কাছে ইজারা দিয়ে অর্থ আত্মসাত করেছেন বললে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় আ.লীগ নেতারা ।
সভাপতি আকরামের সকল অপকর্মের সহযোগী ভাতিজা সাইফা দলীয় সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে নানাভাবে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা,হয়েছেন অঢেল সম্পদের মালিক।
চাচা-ভাতিজার অবৈধ অর্থের মাধ্যমে আলফাডাাঙ্গা বাজারে শাওন টাওয়ার নামে ৫ তলা ভবন ও মার্কেট নির্মান করেছেন,সম্প্রতি নিজ বাড়ীতে দোতালা রাজকীয় ভবন, ঢাকা এয়ার পোর্টের পশ্চিম পাশে ২৫টি দোকান,ঢাকার ইস্কাটন এলাকায় রাজকীয় ফ্লাট বাসার মালিক হয়েছেন আকরাম হোসেন।
এছাড়াও বিভিন্ন ব্যাংকে রয়েছে প্রচুর অর্থ ও অঢেল সম্পদ।সম্প্রতি চাদাবাজের দায়ে থানায় মামলা হলেও শুদ্ধি অভিযানকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে রয়েছেন ধরা ছোয়ার বাহিরে। এত অভিযোগের পড়েও আইন-শৃঙ্কলা বাহিনীর নীরব ভূমিকা স্থানীয়াদের মনে প্রশ্ন তুলেছে ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে,আকরাম হোসেন অভিযোগের বিষয়গুলো অস্বীকার করে বলেন এসব সাজানো ,মিথ্যা -বানোয়াট,দলীয় কার্যালয় পার্শ্ববতী দোকানদাররা ব্যবহার করে, সম্পদের কথা স্বীকার করে বলেন, এসব সম্পত্তি আমার অর্জিত ও পৈত্রিক সম্পত্তি, অন্যান্য অভিযোগের ব্যাপারে তিনি জানান তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে আমি যেকোনো শাস্তি মেনে নিব।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক -শেখ তিতুমীর আকাশ।
বার্তা প্রধান : মোঃ সেলিম উদ্দিন
ইমেইল: dailyswadhinbhasha@gmail.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.abhijug.com কর্তৃক সংরক্ষিত।