মোঃ মালিক মিয়া,কমলগঞ্জ(মৌলভীবাজার) থেকে:
মৌলভীবাজরের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ও ৮ নং মাধবপুর ইউনিয়নের ঘোড়ামাড়া-শুকুর উল্লাহগাঁও সড়কে ধলাই নদীর উপর নির্মিত ৯৬ মিঃ আরসিসি পিএসসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হয় আজ হতে চার বছর আগে।

১৭ মার্চ ২০১৬ সালে কাজ শেষে ব্রিজটি উদ্বোধন করেন এ অঞ্চলের সাংসদ সাবেক চিফ হুইপ উপাদক্ষ ড. আলহাজ্ব মো.আব্দুস শহীদ এমপি. স্থানীয় বাসিন্দারা আলাপ কালে অভিযোগ প্রতিনিধি কে জানান, সেই সময় তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন খুব দ্রুতই রাস্তাটিও পাকা করন করা হবে।
কিন্তু দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হলেও হয়নি এ গ্রামীণ কাচা সড়কে কোন ধরনের উন্নয়ন মূলক কাজ ফলে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন এ অঞ্চলের বসবাসকারী পথচারীরা।
প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এই গার্ডার ব্রিজ টি নির্মিত হলেও রাস্তা উন্নয়নে কোনো কাজ না হওয়াতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পর্যটকসহ সব শ্রেণি পেশার লোকজনদের।
আদমপুর ইউনিয়নের হোমেরজান দক্ষিণ তিলকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ধলাই নদীর পার হয়ে ৮ নং মাধবপুর ইউনিয়নের শুকুরউল্লাহ গ্রাম এবং আশপাশের চার পাচ টি গ্রাম হয়ে প্রায় আড়াই কিঃ মিঃ সড়কটি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান সড়কে সংযুক্ত হয়েছে।
বহু যাবৎকাল থেকে সড়কটি পাকা না করায় এবং এ খাঁচা রাস্তার মধ্যবর্তী জায়গায় একটি কালভার্টের অভাবে এলাকাবাসী রয়েছেন চরম দুর্ভোগে।
এবং গার্ডার ব্রিজ দুই মাথা থেকে মাটি নিচে নেমে যাওয়ায় মোটরসাইকেল বাইসাইকেল ব্যতীত অন্যান্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।
রাজনৈতিক রেষারেষি ও অজানা কারণে বহু যাবত কাল ধরে রাস্তাটিতে মাটি ভরাট এবং ইট সলিং পর্যন্ত হচ্ছে না বলেও গ্রামের লোকজন অভিযোগ করেন।
এ রাস্তা দিয়ে দুই ইউনিয়নের প্রায় ২০-২৫ টি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। এতে তাদের বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয়। এলাকার কৃষক ও স্থানীয় কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পৌহাতে হয় চরম দুর্ভোগ।
রাস্তার মধ্যবর্তী জায়গায় একটি কালভার্ট ভেঙ্গে যাওয়ায় রাস্তার উপরে ফিচপ্লেট ফেলে ঝুঁকি নিয়ে এলাকার কৃষক ও শিক্ষার্থীরা ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলে করে আসছেন।
আজ দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় রাস্তার দুই পাশে প্রচুর ধানী জমি রয়েছে। আর এসব জমিতে চাষাবাদ করতে কৃষকদের পুহাতে হয় চরম দুর্ভোগ।
বর্ষা মৌসুমে এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয় ঝুঁকি নিয়ে। শুকুুরউল্লা গ্রামের কৃষক আবুল কালাম বলেন, এ রাস্তা দিয়ে এলাকার শিক্ষার্থী ও কৃষকরা যাতায়াত করেন।
কিন্তু রাস্তার মধ্যখানে একটি কালবার্ড ও পাকা করন না হওয়াতে আমাদের পুহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ।
অনেক বৃদ্ধা কৃষক এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন ঝুঁকি নিয়ে। এ রাস্তার মধ্যখানে একটি কালভার্ট নির্মাণের জন্য স্থানীয় জন প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবিও জানান তিনি।
শিক্ষার্থী রিপা বেগম বলেন, আমি প্রতিদিন এ রাস্তা দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। কিন্তু রাস্তার মাঝখানে এসে ভয় লাগে। ব্রিজ ভাল থাকলেও রাস্তা কাচা থাকায় এবং ব্রিজ এর দুই মাথা হতে মাটি অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় আমাদের কষ্ট করে বিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করতে হয়। আমাদের দাবি আমরা যাতে সুন্দর ভাবে পড়াশোনার জন্য বিদ্যালয়ে যেতে পারি সেজন্য যাতে রাস্তাটি পাকাকরণ করা হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুল কুমার সিংহ মুঠোফোনে আলাপকালে জানান, তিনি গত দুইবার সেতুটির একপাশে ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে প্রায় ছয় হাজার টাকা খরচ করে মাটি ভরাট করেছেন।
কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে মাটিগুলো সরে গিয়ে ব্রিজের দুুই মাথার এই অবস্থা হয়েছে। তিনি আরো জানান মৌলভীবাজার এলজিইডি কে বিষয়টি জানালে এলজিইডি অফিসের লোকজন এসে রাস্তাটি মেপে নিয়ে যায় কিন্তু আজ অব্দি কোনো উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে না বলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। স্থানীয় চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু বলেন সড়ক ও ব্রিজটির এই বেহাল অবস্থা থাকায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই। তিনি আরো বলেন রাস্তাটি পাকা করন করা হলে দুই ইউনিয়ন বাসী যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরো একধাপ এগিয়ে যেত।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক -শেখ তিতুমীর আকাশ।
বার্তা প্রধান : মোঃ সেলিম উদ্দিন
ইমেইল: dailyswadhinbhasha@gmail.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.abhijug.com কর্তৃক সংরক্ষিত।